সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...

সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক: আর কত প্রাণের বিনিময়ে ফিরবে শৃঙ্খলা?

প্রকাশিত: আগস্ট ০৮, ২০২৫





সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বলি হলেন দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দোষী চালককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন এখনো চালককে আটক করতে না পারায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও দীর্ঘ যানজট


বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের শত শত শিক্ষার্থী শান্তিগঞ্জ পয়েন্টে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। "রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড" হিসেবে এই দুর্ঘটনাকে আখ্যা দিয়ে তারা দোষীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এর ফলে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসন এখনও ঘাতক বাসচালককে আটক করতে পারেনি।


প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন আটকের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা নিজেরাই কয়েকটি বাসের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন এবং বেশিরভাগেরই বৈধ কাগজপত্র পাননি বলে অভিযোগ করেন।


বেপরোয়া গতি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি: দুর্ঘটনার মূল কারণ


স্থানীয় বক্তারা জানান, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল এবং চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। অনেক সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই হেলপাররা গাড়ি চালায়, যা দুর্ঘটনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সমস্যা দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে বলে তারা মনে করেন।


"পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়" - এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তারা যানবাহনের গতি কমানো, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে।


এই ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগই পারে কেবল সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অকালে মূল্যবান প্রাণ ঝরে পড়া রোধ করতে।


Comments

Post a Comment