ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ট্র্যাজিক ঘটনাগুলোর একটি হলো ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। নিজের দেশের মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে পরাজয় ব্রাজিলীয়দের জন্য ছিল এক জাতীয় শোক।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল হতবাক করার মতো। ম্যাচের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সেরা তারকা রোনালদো নাজারিও-র অসুস্থ হওয়া এবং তার ফিট থাকা সত্ত্বেও মাঠে নিষ্প্রভ থাকা আজও বড় রহস্য।
ব্রাজিল অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের মরিয়া চেষ্টায় বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। ২০১২ সালে মেক্সিকোর কাছে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা-র নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এটি কেবল একটি হার ছিল না, এটি ছিল একটি ফুটবলীয় গণহত্যা। নিজ দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ছিল ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার দিন।
আধুনিক যুগের সেরা ব্রাজিলিয়ান তারকা হয়েও নেইমার জুনিয়র বিতর্ক থেকে মুক্ত নন। বিশেষ করে ২০১৮ বিশ্বকাপে তার মাঠে গড়িয়ে পড়া বা অভিনয়ের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছেন।
ব্রাজিলের ফুটবল কেবল গোলসংখ্যা নয়, এটি শিল্প। আমরা যখন দেখি, আমাদের প্রিয় খেলোয়াড়রা কোনো বিতর্কে জড়ান বা বড় ম্যাচে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়েন, তখন সাধারণ ভক্তের বুক কেঁপে ওঠে। এই বিতর্কগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব যেমন আছে, তেমনি আছে সীমাবদ্ধতা ও ভুল। ব্রাজিলিয়ানরা ফুটবলের প্রেমে পড়ে, কিন্তু এই প্রেম সব সময় সুখকর হয় না—কখনো কখনো তা অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাসের গল্প হয়ে রয়ে যায়।
ব্রাজিল ফুটবল মানেই আবেগ, উদ্দীপনা আর সাম্বা নাচের ছন্দ। বিতর্ক থাকবেই, ভুল হবেই—কিন্তু এর মাধ্যমেই ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বকে শিখিয়েছে কীভাবে হোঁচট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। তবে মারাকানাজো থেকে ৭-১ এর লজ্জা—এই ক্ষতগুলো আমাদের কখনোই ভুলতে দেয় না যে, ফুটবলের মাঠ বড়ই নিষ্ঠুর। আমাদের ভালোবাসা কেবল জয়ে নয়, বরং পরাজয়ের সেই বিষাদ মাখা মাঠগুলোতেও রয়ে গেছে চিরস্থায়ীভাবে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এই ঘটনার জেরে তিনি বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি শিকার’
উপদেষ্টা তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপে নতি শিকার করেই বিসিসিআই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
আইসিসির কাছে নালিশ ও নিরাপত্তা শঙ্কা
আসিফ নজরুল জানান, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে, যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না।’ এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ
ভারতের এমন আচরণের প্রতিবাদে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি যেন বাংলাদেশে আইপিএল খেলার সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
‘গোলামীর দিন শেষ’
কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না। গোলামীর দিন শেষ!’