
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা সেই কিশোর আজ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম—লিওনেল মেসি। রোসারিওর ছোট্ট ছেলেটির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কেটেছে হতাশা আর আনন্দ, বিতর্ক আর নেতৃত্ব, অবসর আর পুনর্জন্মের দোলাচলে। দুই দশকের যাত্রায় তিনি গড়েছেন রেকর্ড, জিতেছেন ট্রফি, আর আর্জেন্টিনাকে উপহার দিয়েছেন ফুটবলের সর্বোচ্চ গৌরব।
স্বপ্নের ইঙ্গিত
সিনিয়র দলে নাম লেখানোর আগে ২০০৫ ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেই বিশ্বকে নিজের পরিচয় জানান মেসি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোলসহ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ছয় গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল।
অভিষেকের দুঃখ
২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখে দুঃস্বপ্নের অভিষেক হয় তার।
প্রথম গোল, প্রথম বিশ্বকাপ
২০০৬ সালের মার্চে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন মেসি। একই বছর জার্মানিতে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় তার, যেখানে প্রথম বিশ্বকাপ গোলও পান সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে।
ফাইনালের হতাশা থেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব
২০০৭ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হারের পর, ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতে খানিকটা সান্ত্বনা পান। ২০০৯ সালে রিকেলমের বিদায়ের পর হাতে আসে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। ২০১১ সালে হন দলের স্থায়ী অধিনায়ক।
জার্মানির কাছে হৃদয়ভাঙা
২০১৪ বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুললেও অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির গোলে হাতছাড়া হয় ট্রফি। তবে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান তিনি।
চিলির কাছে দুইবার হার
২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে চিলির কাছে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তবে এক মাসের মধ্যেই ফিরে আসেন।
সাফল্যের নতুন অধ্যায়
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে হতাশা বাড়লেও, ২০২১ কোপা আমেরিকায় অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শিরোপা জেতেন তিনি। মারাকানার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ভাঙেন ২৮ বছরের শিরোপা খরা।
ওয়েম্বলি থেকে লুসাইল
২০২২ ফাইনালিসিমায় ইতালিকে হারিয়ে ওয়েম্বলিতে আরেকটি শিরোপা জেতেন। এরপর কাতার বিশ্বকাপে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে দুই গোল করে, শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দেন।
রেকর্ডের পর রেকর্ড
২০২৩ সালে শততম আন্তর্জাতিক গোল করেন তিনি। আর ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেও আর্জেন্টিনা লাউতারোর গোলে জিতে নেয় রেকর্ড ১৬তম শিরোপা।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির রেকর্ডসমূহ
সর্বাধিক ম্যাচ: ১৯৩
সর্বাধিক গোল: ১১২
বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ: ২৬
অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ: ১৯
বিশ্বকাপে সর্বাধিক অ্যাসিস্ট: ৬ (পেলের সাথে যৌথভাবে)
কোপা আমেরিকায় সর্বাধিক অ্যাসিস্ট: ১৮
শত গোলের ক্লাবে নাম লেখানো প্রথম আর্জেন্টাইন
দুই দশকের পথচলায় লিওনেল মেসি প্রমাণ করেছেন—অভিষেকের হতাশা থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ, সবকিছু মিলিয়েই তিনি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।
Comments
Post a Comment