তারেক রহমান
তারেক রহমান, বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে। জানুন তার রাজনৈতিক জীবন, আলোচিত মামলা, বিতর্ক ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধারে আলোচিত ও সমালোচিত একটি নাম তারেক রহমান, যিনি তারেক জিয়া নামেও পরিচিত। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার বর্ণাঢ্য কিন্তু বিতর্কিত রাজনৈতিক জীবন এবং অসংখ্য মামলা তাকে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাজীবন
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা তারেক রহমান ঢাকার স্বনামধন্য ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
রাজনৈতিক উত্থান ও বিএনপির নেতৃত্বে আসা
বাবার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এরপর ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরবর্তীতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন।
তবে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বনানীর "হাওয়া ভবন"-কে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। এটিকে তৎকালীন সরকারের বিকল্প শক্তি কেন্দ্র হিসেবে অভিযোগ করা হতো এবং এখান থেকেই দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে।
২০১৮ সালে মা খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
আলোচিত মামলা ও বিতর্ক: ২১ আগস্ট হামলা থেকে অর্থপাচার
তারেক রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য মামলা ও বিতর্ক। তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কিছু মামলা হলো:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: ২০০৪ সালের এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যদিও পরবর্তীতে হাইকোর্ট তাকে এই মামলা থেকে খালাস প্রদান করে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: এই মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অর্থপাচার মামলা: একটি অর্থপাচার মামলায় নিম্ন আদালতে খালাস পেলেও, উচ্চ আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা: দুদকের দায়ের করা এই মামলায় তার ৯ বছরের কারাদণ্ড হয়।
বিএনপির দাবি, এই সব মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
বর্তমান অবস্থা এবং দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনা
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর, ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তারেক রহমান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।
বিদেশে থেকেই তিনি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা অনেকগুলো মামলা ইতোমধ্যে খারিজ হয়েছে, যা তার দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মামলা এবং দলের ওপর তার প্রভাব তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।

Comments
Post a Comment