সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...

উজানের ঢলে তিস্তা ভয়ংকর, রংপুরের ৩০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: আগস্ট ০৮, ২০২৫

 



কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দী হাজারো পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা।


ভারতের সিকিমে অবিরাম বর্ষণের ফলে সৃষ্ট উজানের ঢলে তিস্তা নদী ফুঁসে ওঠায় রংপুরের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।


রোববার (২৩ জুন) সকালে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ। এর আগে সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজে পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), রংপুর-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


সরেজমিনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ বাড়িঘরে কোমর সমান পানি। অনেক পরিবার উঁচু স্থানে বা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। রান্নাঘর ও নলকূপ ডুবে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুই দিন ধরে অনেক বাড়িতে রান্না বন্ধ।


বন্যার পানিতে সদ্য রোপণ করা ধান, পাট এবং সবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।


এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ তামান্না জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।


Comments

Post a Comment