অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা শর্ত ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এক বা দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে—এমন কোনো ম্যান্ডেটও তাদের দেওয়া হয়নি। সরকার নিজেদের নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গত এক বছরের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আমরা যখন দায়িত্ব নিই, তখন নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে বর্তমান সরকার মনে করে, দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে দেশে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল না। সেই চর্চা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং একেই আমরা বড় অর্জন হিসেবে মনে করি।’
তিনি আরও জানান, সরকার নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছে এবং তা সময়মতোই অনুষ্ঠিত হবে। এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বা তোড়জোড় শুরু হলে সরকার সেখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তবে যতক্ষণ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে না দাঁড়াচ্ছে, ততক্ষণ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বলা যাবে না।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমি বিস্মৃত হয়েছি এবং এ নিয়ে আমার বর্তমানে কোনো ধারণা নেই। দেশে নির্বাচনের পরিবেশ আছে কি না, সে বিষয়ে সঠিক উত্তর নির্বাচন কমিশনই দিতে পারবে।’
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমসচিব মো. সানোয়ার জাহান ভুঁইয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Comments
Post a Comment