সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া: থামল রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাত

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫


দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও চরম উত্তেজনার পর অবশেষে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​এই সমঝোতার ফলে সীমান্তে চলা ভয়াবহ সংঘাতের আপাতত অবসান ঘটল, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির শর্ত ও সেনা মুক্তি

যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ সব ধরনের সেনা চলাচল স্থগিত রাখবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষদের নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার সুযোগ করে দেবে।

​চুক্তিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যদি টানা ৭২ ঘণ্টা সীমান্তে শান্তি বজায় থাকে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকে, তবে থাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

উত্তেজনা প্রশমনে কঠোর নির্দেশ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার কর্মকর্তাদের দীর্ঘ আলোচনার পর এই ‘উত্তেজনা প্রশমন’ চুক্তি সম্ভব হয়েছে। বিবৃতিতে উভয় পক্ষের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উসকানি ছাড়া গোলাবর্ষণ বা প্রতিপক্ষের দিকে সেনা অগ্রসর হওয়ার মতো পদক্ষেপগুলো কঠোরভাবে এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের ‘কুয়ালালামপুর চুক্তি’ ও সাম্প্রতিক সংঘাত

চলতি বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ‘কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি’ সই হয়েছিল। শনিবারের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আটক সেনাদের মুক্তির বিষয়টি সেই কুয়ালালামপুর ঘোষণার নীতি অনুযায়ীই সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

​তবে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড নিরাপত্তা হুমকির অজুহাতে সেই চুক্তি স্থগিত করে। এরপর ডিসেম্বরের শুরুতেই সীমান্তে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবারও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সীমান্তে বিমান হামলা চালায়। থাই বিমানবাহিনী দাবি করে, তারা সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে, তবে কম্বোডিয়া একে বেসামরিক ঘরবাড়ির ওপর ‘নির্বিচার আক্রমণ’ বলে অভিহিত করে।

​শতাব্দীপ্রাচীন এই সীমান্ত বিরোধ চলতি বছরের মে এবং জুলাই মাসেও বড় আকার ধারণ করেছিল। তবে শনিবারের এই নতুন যুদ্ধবিরতি সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা)।


Comments

Post a Comment