সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

হাড় কাঁপানো শীতে স্থবির উত্তরবঙ্গ: পেটের দায়েও ঘর ছাড়তে পারছে না শ্রমজীবী মানুষ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

 


হিমালয় ঘেরা উত্তরের জেলাগুলোতে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুর বিভাগের জনজীবন। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এই শীত নেমে এসেছে অভিশাপ হয়ে। তীব্র ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ, ফলে টান পড়েছে তাদের দৈনন্দিন আয়ে।

কর্মহীন মানুষের হাহাকার

​উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক এবং দিনমজুররা কাজের সন্ধানে বাইরে বের হতে পারছেন না।

​লালমনিরহাটের দিনমজুর কান্দ্রি বালা (৬০) বলেন, "শীতের কারণে বাইরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। একদিন কাজ না করলে আমাদের চুলায় আগুন জ্বলে না, অথচ ঠান্ডায় ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে। প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে চলতে হচ্ছে।"

​রংপুর নগরীর রিকশাচালক মমিনুল ইসলাম জানান, শীতের তীব্রতায় যাত্রী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যেখানে আগে দিনে ৭০০ টাকা আয় হতো, এখন তা ২০০-৩০০ টাকায় নেমে এসেছে।

শীতবস্ত্রের তীব্র সংকট

​দরিদ্র মানুষের ঘরে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। কুড়িগ্রামের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চিত্র আরও ভয়াবহ। ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া জানান, চরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার, অথচ সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১০০টি। প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দ একেবারেই নগণ্য।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড

​রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল নিম্নরূপ:

  • সৈয়দপুর: ১০.৫° সে. (সর্বনিম্ন)
  • পঞ্চগড়: ১০.৬° সে.
  • ঠাকুরগাঁও: ১০.৭° সে.
  • রংপুর: ১১.২° সে.
  • কুড়িগ্রাম: ১১.৫° সে.

​আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার এই দাপট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।


Comments

Post a Comment