অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না। তিনি বলেন, ‘এই সরকার কিন্তু কোনো দলের পক্ষে নয়। এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি।’
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা বালক সরকারি স্কুল মাঠে ভোটের গাড়ি ‘ক্যারাভান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘২০০৮ সালের পর আর ভোট হয়নি’
বিগত জমানার নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০৮ সালে। এর পরে আসলে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। যাদের বয়স ৩০ বা এর আশেপাশে, তারা সত্যিকার অর্থে কখনো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।’ সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবার ভোট দিতে মুখিয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সরকারি ভূমিকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি চায় সরকার। এ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আমেরিকার রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটসহ সারা বিশ্ব থেকে পর্যবেক্ষকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘সরকার পর্যবেক্ষকদের গায়ে পড়ে কোনো সাহায্য করতে যাবে না, যতক্ষণ না তারা চাইবেন। কারণ আগ বাড়িয়ে কিছু করলে মনে হতে পারে সরকার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা আমরা এক বিন্দুও করব না। আমরা শুধু দেখব তাদের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়।’
তবে পর্যবেক্ষক কারা হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের এখানে কোনো ভূমিকা নেই। ইসি যাদের নিরপেক্ষ মনে করবে এবং ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করবে না বলে মনে করবে, তাদেরই অনুমোদন দেবে।’
জনমতের প্রতিফলন ও উৎসবমুখর ভোট
নির্বাচনে ছোটখাটো গণ্ডগোল হতে পারে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘মূল বিষয় হলো নির্বাচনে মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটছে কি না। গত তিনটি কথিত নির্বাচনে সেটা প্রতিফলিত হয়নি। এটাই হলো মূল পরিবর্তন। আমরা আশা করব, এবার অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।’

Comments
Post a Comment