ঢাকার দূষণ আর শীতের শুষ্কতায় কীভাবে নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখবেন, তা নিয়েই আজকের এই ব্লগ।
১. কেন বাড়ে শীতকালীন এলার্জি?
শীতকালে ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় এবং ধুলিকণা বা 'পার্টিকুলেট ম্যাটার' (PM2.5) এর পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়া পুরনো লেপ-কম্বল বের করার পর জমে থাকা 'ডাস্ট মাইট' (একধরণের ক্ষুদ্র পোকা) এলার্জির বড় কারণ। ঠান্ডা বাতাস সরাসরি নাকে বা ফুসফুসে গেলে অনেকের ‘ কোল্ড এলার্জি’ দেখা দেয়।
২. এলার্জি থেকে বাঁচার কার্যকরী উপায়
ক) মাস্কের সঠিক ব্যবহার ঢাকার রাস্তায় এখন প্রচুর ধুলো। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক (সম্ভব হলে N95 বা সার্জিক্যাল মাস্ক) ব্যবহার করুন। এটি শুধু ধুলোবালি নয়, শীতের ভাইরাস থেকেও আপনাকে রক্ষা করবে।
খ) ঘরবাড়ি ধুলোমুক্ত রাখা
ঘর ঝাড়ু দেওয়ার বদলে ভেজা নেকড়া দিয়ে মুছুন। ঝাড়ু দিলে ধুলো বাতাসে ওড়ে এবং নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে।
ভারী পর্দা বা কার্পেট শীতে এলার্জির আঁতুড়ঘর। সম্ভব হলে এগুলো সরিয়ে ফেলুন বা নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন।
গ) বিছানা ও গরম কাপড় পরিষ্কার
আলমারি থেকে বের করা সোয়েটার, জ্যাকেট বা লেপ রোদে দিয়ে বা ধুয়ে ব্যবহার করুন।
বিছানার চাদর ও বালিশের কভার সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ডাস্ট মাইট মরে যায়।
ঘ) গোসল ও পরিচ্ছন্নতা বাইরে থেকে এসে দ্রুত গোসল করে ফেলা ভালো। এতে শরীরে বা চুলে লেগে থাকা ধুলোবালি দূর হয়। শীতে গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন, তবে অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের শুষ্কতা বাড়িয়ে এলার্জি বা চুলকানি তৈরি করতে পারে। গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার বা লোশন মাখুন।
৩. খাদ্যাভ্যাস ও ঘরোয়া টোটকা
এলার্জি প্রতিরোধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
ভিটামিন সি: প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি এবং টক জাতীয় ফল (কমলা, আমলকী, মাল্টা) খান।
আদা ও তুলসি চা: প্রতিদিন সকালে আদা, লবঙ্গ ও তুলসি পাতা দিয়ে চা পান করলে গলার খুসখুসে ভাব ও কফ দূর হয়।
মধু ও কুসুম গরম পানি: সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে।
পর্যাপ্ত পানি পান: শীতে পানি পিপাসা কম পায়, কিন্তু শরীর হাইড্রেটেড রাখা খুব জরুরি। ডিহাইড্রেশন এলার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
যদি দেখেন ঘরোয়া যত্ন নেওয়ার পরেও শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, একটানা হাঁচি হচ্ছে কিংবা ত্বকে চাকা চাকা দাগ দেখা দিচ্ছে, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
ঢাকার শীতে এলার্জি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও একে অবহেলা করা উচিত নয়। একটু বাড়তি সতর্কতা আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে আপনাকে এই শীতে সুস্থ ও সতেজ রাখতে। নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকেও সুস্থ রাখুন।
আপনার জন্য একটি টিপ: আপনি যদি ধুলোবালির কারণে খুব বেশি হাঁচি বা সর্দিতে ভোগেন, তবে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে লবণ-গরম পানি দিয়ে গার্গল বা 'ভেপার' (গরম পানির ভাপ) নেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এটি খুব দ্রুত আরাম দেয়।
Comments
Post a Comment