পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ–চীন–পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়ে নতুন আঞ্চলিক জোটে রূপ নিতে পারে। সার্কের অচলাবস্থার মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ সামনে আসছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, বাংলাদেশ–চীন–পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও দেশকে যুক্ত করে বৃহত্তর আঞ্চলিক কাঠামোতে রূপ নিতে পারে।
৩ ডিসেম্বর ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে ইসহাক দার বলেন,
“আমরা শূন্য-সমষ্টিভিত্তিক রাজনীতির বিরোধিতা করি। সহযোগিতাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।”
তার এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ছাড়া একটি বিকল্প আঞ্চলিক জোট গঠনের ইঙ্গিতই দেয় বলে
বিশ্লেষকদের মত।
সার্ক কার্যত অচল—এর পেছনে ভারত–পাকিস্তান বৈরিতা
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার পর চার দশক পেরিয়ে গেলেও ভারত–পাকিস্তানের বৈরিতার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির।
২০১৬ সালে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন ভারত বয়কট করলে সংস্থাটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
এদিকে ২০২4 সালে ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
---
🔵 বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কও টানাপড়েনের মধ্যে
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কও গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেন। এরপরও তাকে ফেরত না পাঠানোয় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সম্পর্ক আরও তলানিতে নেমে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি চীন–পাকিস্তানের এই সহযোগিতায় গভীরভাবে যুক্ত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছে কূটনৈতিক মহল।
---
🔵 ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা কী?
গত জুনে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনীতিকরা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
আলোচনায় ছিল—
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সংযোগ (Connectivity)
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন
তখন সবাই বলেছিল, এটি কারও বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু ইসহাক দারের সর্বশেষ বক্তব্য পরিস্থিতিকে নতুন রূপ দিয়েছে।
---
🔵 পাকিস্তানের প্রস্তাব: ভারতকে পাশ কাটিয়ে নতুন আঞ্চলিক কাঠামো
পাকিস্তানের মতে, নতুন এই আঞ্চলিক উদ্যোগের লক্ষ্য—
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো
প্রযুক্তি ও ইনোভেশন শেয়ারিং
আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার
স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি
ইসহাক দার বলেন,
“আমাদের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারগুলো কোনো দেশের কঠোরতার কাছে জিম্মি হতে পারে না।”
এ বক্তব্য স্পষ্টভাবে ভারতের দিকেই ইঙ্গিত করে।
---
🔵 কোন কোন দেশ যুক্ত হতে পারে?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগে আংশিক আগ্রহ দেখাতে পারে—
শ্রীলঙ্কা
নেপাল
মালদ্বীপ
ভুটান
তবে ভারতের বিরোধিতা মোকাবিলা করার ক্ষমতা আছে কিনা—এটাই বড় প্রশ্ন।
---
🔵 সার্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বব্যাংকের তথ্য:
সার্ক অঞ্চলে জনসংখ্যা: ২ বিলিয়নের বেশি
অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য: মাত্র ৫%
সম্ভাব্য বাণিজ্য বৃদ্ধি: ৬৭ বিলিয়ন ডলার
তবে ভারত–পাকিস্তান বৈরিতার কারণে সার্ক এখন প্রায় মৃত অবস্থায়।
---
🔵 পাকিস্তানের প্রস্তাব কি বাস্তবায়নযোগ্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
প্রস্তাবটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী, তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়
দেশগুলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নেবে কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন
তবে বাংলাদেশ–চীন–পাকিস্তানের সহযোগিতা ভারতের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ বাড়াবে
এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন শক্তির সমীকরণ তৈরি করতে পারে
আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেন,
“পাকিস্তানের প্রস্তাব কার্যকর হলে এটি ভারত–বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের গতিপথ বদলে দেবে।”
সূত্র: আল জাজিরা

Comments
Post a Comment