পৌষের মাঝামাঝিতে এসে সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ে আছে দেশের বড় একটি অংশ। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়ায়, যা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রির ঘরে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস
আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও কুয়াশার কারণে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা নাও মিলতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তাপমাত্রার খতিয়ান
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রার পারদ ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
রাজধানী ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা বাতাসের কারণে ঢাকায় শীতের অনুভূতি তাপমাত্রার চেয়ে বেশি।
শৈত্যপ্রবাহের আভাস
আবহাওয়াবিদদের মতে, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারীসহ উত্তরের বেশ কিছু জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রার পারদ আরও কিছুটা নিচের দিকে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জানুয়ারির শুরুর দিকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ এবং শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। নৌপথেও ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কুয়াশা কেটে গেলে রোদের দেখা মিললেও বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ সহসা কমছে না।

Comments
Post a Comment