গতকাল শনিবার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, সিংহী ‘ডেইজি’র মূল খাঁচার দরজার বাইরে লোহার গ্রিলের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা খাঁচার একেবারে কাছে যেতে না পারে। শুক্রবার বিকেলে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার জন্য এই ডেইজিই মূল খাঁচা থেকে বেরিয়ে পড়েছিল।
কর্তব্যরত ব্যক্তিরা তড়িঘড়ি করে লোহার খাঁচা ব্যবহার করে প্রাণীটির পথ আটকে দেওয়ায় বড় বিপদ ঘটেনি। ডেইজি বেরিয়ে এসে সেখানকার পানির পাম্পের পাশে হরিণের খাঁচার কাছে বসেছিল। ভয়ে হরিণের দল চিৎকার করতে থাকে।
⚠️ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেন কর্মীরা, বাড়ল নিরাপত্তা নজরদারি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জুনিয়র অফিসার মো. ওবায়দুল বারী খান। তিনি জানান, তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নতুন করে বেড়া লাগিয়েছেন, অথচ তাঁদের কোনো ঝুঁকিভাতা নেই।
শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত দর্শনার্থীদের চিড়িয়াখানা থেকে বের করে দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ‘ট্রাঙ্কুলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে সিংহীটিকে অচেতন করা হয়। পরে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে এটিকে আবার খাঁচায় ফেরানো হয়।
ডেইজি (বয়স ৫ বছর, ওজন ২০০ কেজি) কেমন আছে? গতকাল ডেইজিকে মূল খাঁচার ভেতরের নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে বের করা হয়নি। পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার কর্মীর ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে জানান, ডেইজি খাওয়াদাওয়া করলেও ঘনঘন পায়চারি করছে। চিড়িয়াখানার হাসপাতালের সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, অনেক ধকলের পরও ডেইজি স্বাভাবিক, তবে কিছুটা ভয় পাচ্ছে। এ ঘটনার পর চিড়িয়াখানার নিরাপত্তার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
🚨 জনবল ও আধুনিকায়নে ঘাটতি: সামনে এল নিরাপত্তা প্রশ্ন
সিংহী খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসার এই ঘটনা চিড়িয়াখানার নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
- তদন্ত কমিটি: ঘটনার রাতেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ আরও একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিগুলো সিংহী কীভাবে বের হলো, তা চিহ্নিত করবে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা উন্নয়নের সুপারিশ করবে।
- কর্মীদের দাবি: পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সাথে আলোচনায় কর্মীদের ঝুঁকি ভাতা দেওয়া, র্যাপিড রেসপন্স দল গঠন এবং নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
- জনবল সংকট: পরিচালক জনবল সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চিড়িয়াখানার মূল পদ ২৩৭টি, কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন—অর্থাৎ ১৬০টি পদ শূন্য।
- আধুনিকায়ন: মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
আশ্চর্যজনকভাবে, এ ঘটনার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও চিড়িয়াখানার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৫ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছিলেন।
সূত্র - প্রথম আলো

Comments
Post a Comment