যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার ভোরে চালানো প্রায় ১০ ঘণ্টাব্যাপী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এটিই প্রমাণ করে যে মস্কো আসলে শান্তি চায় না।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের কথা রয়েছে। এর পথিমধ্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
৫০০ ড্রোন ও ৪০ ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব
জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানান, রাশিয়া কিয়েভ লক্ষ্য করে প্রায় ৫০০টি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। এতে অন্তত দুজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
হামলার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে ইউক্রেনের উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানান, জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রচণ্ড শীতের মধ্যে কিয়েভ ও আশপাশের প্রায় ৪০ শতাংশ আবাসিক ভবনের হিটিং ব্যবস্থা (তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ) অচল হয়ে পড়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় দারনিতস্কি জেলায় একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে ৬৮ জনকে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
‘রাশিয়ার হয়ে কথা বলছে মিসাইল’
শান্তি আলোচনার আবহে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ প্রতিনিধিরা মুখে দীর্ঘ আলোচনা করে, কিন্তু বাস্তবে তাদের হয়ে কথা বলছে ড্যাগার (ক্ষেপণাস্ত্র) ও শাহেদ (ড্রোন)। এতে স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান না।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই অসুস্থ আগ্রাসনের জবাব দিতে হলে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। আমেরিকার সে সুযোগ আছে, ইউরোপের আছে।’
কানাডার সহায়তা ও ট্রাম্পের সঙ্গে এজেন্ডা
ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে কানাডায় যাত্রাবিরতি করেন জেলেনস্কি। সেখানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পর কার্নি ইউক্রেনকে ২.৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
আজ ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে ২০ দফার নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।
পুতিনের হুঁশিয়ারি ও পোল্যান্ডের সতর্কতা
হামলার পরপরই ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ‘দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
একই দিন সামরিক পোশাকে মস্কোর একটি কমান্ড সেন্টার পরিদর্শন করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কিয়েভ যদি শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান না চায়, তবে রাশিয়া সামরিক উপায়েই নিজের লক্ষ্য পূরণ করবে।’
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও এএফপি।

Comments
Post a Comment