সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...

ঐতিহাসিক! লিওনেল মেসির ৪৭তম শিরোপা: এমএলএস কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি (৩-১)

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫

 


ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে চেজ স্টেডিয়ামে উড়ল কনফেত্তির বন্যা। ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন সেই মানুষটি, যাঁকে ফুটবল-বিশ্বের অনেকেই এখন ‘সর্বকালের সেরা’ মানেন। বর্ণাঢ্য পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ৪৭তম শিরোপা—ইতিহাসের যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে বেশি!

​ছোট-বড় নানা প্রশ্নে জর্জরিত ইন্টার মায়ামি দলটা অবশেষে সব সংশয়ের উত্তর দিল। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এমএলএস কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ইন্টার মায়ামি! ঘরের মাঠ চেজ স্টেডিয়ামে এটি ছিল তাদের শেষ ম্যাচ। আগামী বছর চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই তারা পা রাখবে নতুন ঠিকানা ‘মায়ামি ফ্রিডম পার্কে’।

​✨ ম্যাচের মোড় ঘোরালেন সেই মেসিই

​২০২৫ সালটা মায়ামির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। এক বছরে ৫৮টি ম্যাচ খেলে তারা এমএলএস ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছে। পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন শিরোপার জন্য লড়তে হয়েছে তাদের। তবে এই এমএলএস কাপটাই ছিল তাদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত।

​ফাইনালে ভ্যাঙ্কুভার দারুণ খেললেও, মায়ামিকে শেষ পর্যন্ত ট্রফি এনে দিয়েছে ছোট ছোট জাদুকরি মুহূর্ত। সেই জাদুর কাঠিটা যথারীতি লিওনেল মেসির হাতে! তিনটি গোলেরই মূল উৎস ছিলেন তিনি।

  • প্রথম গোল (আত্মঘাতী): ম্যাচের ৬০ মিনিটে প্রথম গোলটি আত্মঘাতী হলেও, এর কারিগর ছিলেন মেসিই। ডান সাইডলাইন ঘেঁষে তিন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সেই বল একজনের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।
  • দ্বিতীয় গোল (রদ্রিগো দি পল): ৬০ মিনিটে ভ্যাঙ্কুভার গোল শোধ করে ১-১ করলে, ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭১ মিনিটে। মেসির কাছ থেকে পাওয়া বলে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন মৌসুমের মাঝপথে দলে যোগ দেওয়া আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল
  • তৃতীয় গোল (তাওদেও আলেন্দি): মেসির দুর্দান্ত লব থেকে পাওয়া বলে গোল করে সব সংশয় দূর করেন তাদেও আলেন্দি। কোচ হাভিয়ের মাচেরানো আবেগ ধরে রাখতে না পেরে মাঠে ঢুকে ঘাসে চুমু খান!

​🔥 মেসি বনাম কুবাস: দ্বৈরথের পরিণতি

​ফ্লোরিডার ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতার মধ্যে ম্যাচটি ছিল মেসির শৈল্পিক ফুটবল এবং ভ্যাঙ্কুভারের পেশিশক্তির দ্বৈরথ। প্রথমার্ধে ভ্যাঙ্কুভারের দাপট ছিল বেশি। এমানুয়েল সাবি বারবার আলবা ও বুস্কেতসকে (যাদের এটি ছিল শেষ পেশাদার ম্যাচ) পরীক্ষায় ফেলছিলেন।

​৬২ মিনিটে সাবির শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসাটা ছিল ম্যাচের অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় ভ্যাঙ্কুভার।

​পুরো ম্যাচে মেসির সঙ্গে ভ্যাঙ্কুভারের মিডফিল্ডার আন্দ্রেস কুবাসের দ্বৈরথ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যারাগুয়ের হয়ে খেলার সময় থেকেই মেসির পুরোনো প্রতিপক্ষ কুবাস মেসিকে কড়া ট্যাকল করে কথা শুনিয়েছিলেন। শান্ত মেসিকে রাগিয়ে দেওয়ার ফল হাতেনাতে পেলেন তিনি। সমতাসূচক গোলের দশ মিনিট পর কুবাসের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দি পলকে দেন মেসি, যা থেকে আসে ২-১ গোলের লিড।

​🏟️ বিদায়ী স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জয়

​অস্থায়ী, জৌলুশহীন ইস্পাতের কাঠামোর চেজ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়—২০২৩ সালে মেসির আগমনের পর থেকে যা নিয়মিত দৃশ্য। দক্ষিণ ফ্লোরিডার এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে বিদায় জানানোর দিনে এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর কী হতে পারে! এই অসুন্দর-অস্থায়ী কাঠামোই সাক্ষী হয়ে রইল ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর গল্পের।

​মেসির এই ৪৭তম শিরোপা জয়কে আপনি কীভাবে দেখছেন? আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে।


Comments

Post a Comment