বাংলাদেশের কাটার-মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি (ILT20)-তে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাতেই স্পষ্ট, কেন তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার।
দুই ম্যাচ শেষে মোস্তাফিজের পরিসংখ্যান এককথায় দুর্দান্ত: মোট ৪২টি বৈধ ডেলিভারির মধ্যে ২৪টিই ছিল 'ডট বল'! অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি বলে কোনো রান নিতে পারেননি প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। মাত্র ৪৮ রান খরচ করে তিনি তুলে নিয়েছেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
দুবাই ক্যাপিটালসের প্রথম জয়ে ‘ফিজের’ অবদান
লিগের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর অবশেষে আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছে মোস্তাফিজের দল দুবাই ক্যাপিটালস। এই ৮৩ রানের বিশাল জয়ে বাংলাদেশি এই পেসারের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো।
আবুধাবির বিপক্ষে মোস্তাফিজ ৩ ওভার বল করে মাত্র ২২ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি মূল্যবান উইকেট। এর মধ্যে ১১টি বলই ছিল ডট। তাঁর শিকার হন ভয়ংকর ওপেনার ফিল সল্ট (২৭) এবং উন্মুক্ত চাঁদ (০)। পাওয়ার-প্লে’তে এবং পরে যখনই তাঁকে বোলিংয়ে আনা হয়েছে, তখনই তিনি ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছেন বা রানের গতি আটকে দিয়েছেন।
দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সের সারসংক্ষেপ
মোস্তাফিজ তাঁর প্রথম দুই ম্যাচেই নিজের সেরা ফর্মের ঝলক দেখিয়েছেন। গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে হারের ম্যাচে তিনি ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ডট বল ছিল ১৩টি। এরপর আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে তিনি ৩ ওভারে ২২ রান খরচায় আবার তুলে নেন ২ উইকেট এবং সেখানে ১১টি বল ছিল ডট। সবমিলিয়ে মোট ৭ ওভার বল করে তিনি ২৪টি ডট বলের সাহায্যে ৪টি উইকেট শিকার করেন, খরচ করেন মাত্র ৪৮ রান। মোস্তাফিজের এই ইকোনমি রেট এবং উইকেট শিকারের ধারাবাহিকতা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর গুরুত্ব প্রমাণ করে।
ব্যাটারদের দাপট: জয়ের ভিত গড়ে দেন পাওয়েল
তবে মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের আগে জয়ের ভিত গড়ে দেন দুবাই ক্যাপিটালসের ব্যাটাররা। প্রথমে ব্যাট করে রোভম্যান পাওয়েলের ৯৬ (৫২ বলে) ও জর্ডান কক্সের ৫২ (৩৬ বলে) রানের সুবাদে দুবাই ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। এরপর বাকি কাজটা সহজেই সেরে ফেলেন মোস্তাফিজসহ অন্য বোলাররা।
মোটকথা, প্রথম দুই ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের পারফরম্যান্স তাঁর ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। সামনের ম্যাচগুলোতেও তিনি এই ছন্দ ধরে রাখলে দুবাই ক্যাপিটালসের প্লে-অফে যাওয়ার পথ সহজ হবে বলেই আশা করা যায়। তাঁর পরের ম্যাচ আগামী ১৩ ডিসেম্বর।

Comments
Post a Comment