সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি ইসলাম বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

অন্যকে ক্ষমা করলে নিজের গুনাহ মাফ হয়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ০৪, ২০২৬

 


ইসলাম ধর্মে ক্ষমাকে একটি মহৎ গুণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অন্যের অপরাধ মার্জনা করা, ক্রোধ সংবরণ করা এবং প্রতিশোধ না নেওয়াকে ক্ষমা বলা হয়। ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ক্ষমার চর্চা যেমন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে, তেমনি অন্যকে ক্ষমা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছ থেকে নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব।

​পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ক্ষমার ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

কোরআনের নির্দেশনা

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের ক্ষমার পথ অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা তাগাবুনে (আয়াত: ১৪) বলা হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা তাদের মার্জনা করো, দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করো এবং ক্ষমা করো, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’

​সুরা নিসায় (আয়াত: ১৪৯) আল্লাহ আরও বলেন, ‘যদি তোমরা কোনো সৎকর্ম প্রকাশ করো বা গোপন করো কিংবা কোনো অপরাধ মার্জনা করো, তাহলে আল্লাহ নিশ্চয়ই মার্জনাকারী ও সর্বশক্তিমান।’

হজরত আবু বকর (রা.) ও সুরা নূরের শিক্ষা

ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর জীবনের একটি ঘটনা ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারীদের সঙ্গে শরিক থাকার কারণে আবু বকর (রা.) তাঁর আত্মীয় ও অভাবগ্রস্ত সাহাবি মিসতা বিন আসাসা (রা.)-কে আর আর্থিক সাহায্য না করার কসম করেছিলেন।

​তখন আল্লাহ তাআলা সুরা নূরের ২২ নম্বর আয়াত নাজিল করেন। যেখানে বলা হয়, ‘তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াবান।’

​এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর আবু বকর (রা.) বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমি চাই যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।’ এরপর তিনি সঙ্গে সঙ্গে কসম ভঙ্গ করেন এবং মিসতাকে (রা.) আগের মতোই সহযোগিতা করা শুরু করেন।

পরকালে মুক্তির উপায়

দুনিয়াতে মানুষের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার বিনিময়ে পরকালে আল্লাহর ক্ষমা লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের ভুল ক্ষমা করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার ভুল ক্ষমা করবেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৯৯)

​অর্থাৎ, মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও পরকালীন মুক্তি পেতে হলে মানুষকে ক্ষমা করার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।


Comments

Post a Comment