ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম চালু হলেও আগামী তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। একইসাথে, কারিগরি ত্রুটির কারণে সিস্টেমে হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখানো নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি NEIR সিস্টেম নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি নিরসনে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডাটা মাইগ্রেশন ও হ্যান্ডসেট সংখ্যার বিভ্রান্তি
কর্তৃপক্ষ জানায়, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডাটা সিস্টেমে আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরনো বা 'হিস্টোরিক' ডাটাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান সময়ের দেখানোয় অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে। ধীরে ধীরে পুরনো ডাটাগুলো আর্কাইভে সরিয়ে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটগুলোর সংখ্যা প্রদর্শন করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও ভিপিটি (VAPT)
সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুনরায় 'ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং' (VAPT) করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডাটাবেজ সুরক্ষায় নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন (JWT) এবং রেট লিমিট কার্যকর রয়েছে।
সম্প্রতি এনআইডি নম্বরের বিপরীতে আইএমইআই (IMEI) তথ্য চলে আসার যে টেকনিক্যাল সমস্যাটি নজরে এসেছে, তা সমাধানে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে সিস্টেমে আরও একটি নিরাপত্তা স্তর (Layer) যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিম ব্যবহারের নতুন সীমা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন নাগরিকের এনআইডির বিপরীতে সিম ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে ১০টি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আগে এই সীমা ছিল ২০টি এবং পরবর্তীতে ১৫টি। সিমের সীমা কমিয়ে আনার কারণে এনইআইআর ম্যাপিংয়ে পুরনো বা হিস্টোরিক ডাটায় হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখানো স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাগরিক সচেতনতা ও অপরাধ দমন
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি জানতে পারবেন তার এনআইডি ব্যবহার করে কতগুলো সিম বা ডিভাইস সচল রয়েছে। বিশেষ করে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইসের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত কোনো আর্থিক অপরাধ হচ্ছে কি না, তা জানা এবং প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
কর্তৃপক্ষ টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দেওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় চেয়ে সহযোগিতা কামনা করেছে।

Comments
Post a Comment