সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

‘প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক নয়, দাঙ্গাকারীদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে’: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ০৪, ২০২৬

 


শত্রুর কৌশল সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, প্রতিবাদ করা জনগণের বৈধ অধিকার, কিন্তু দাঙ্গা সৃষ্টি করা ভিন্ন বিষয়। যারা দাঙ্গা সৃষ্টি করছে, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই; বরং তাদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

​দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং শত্রু রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শত্রুর কৌশল ও জাতীয় ঐক্য

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘শত্রুর কৌশল চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। শত্রু কখনো বসে থাকে না; তারা সব সুযোগ কাজে লাগায়।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, যদিও সরকার ও কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন, তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতির সম্মিলিত ঐক্য।

​তিনি আরও বলেন, ‘শত্রু যখন উদ্ধতভাবে রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের ওপর নিজের দাবি চাপিয়ে দিতে চায়, তখন শক্তভাবে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে তার মোকাবিলা করতে হবে।’

ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা ও সতর্কবার্তা

ইরানের ব্যবসায়ী ও বাজারকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাসে বাজার ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বিশ্বস্ত শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন।’

​তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যবসায়ীদের দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইসলাম ও ইরানবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খামেনি স্বীকার করেন যে, মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বাস্তব সমস্যা। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং এর সমাধানে কাজ করছেন।’

প্রতিবাদ বনাম দাঙ্গা

বিক্ষোভ ও দাঙ্গার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ করা বৈধ অধিকার, কিন্তু প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক বিষয় নয়। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার, তাদের সমস্যা শোনা দরকার।’

​তবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। তাদের উপযুক্তভাবে দমন করতে হবে।’


Comments

Post a Comment