ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী সহিংসতার পর এবার সরকারের সমর্থনে রাজপথে নেমেছে লাখো মানুষ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির বিভিন্ন শহরে রাষ্ট্রীয় আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের জবাবে সামরিক হস্তক্ষেপের মতো ‘শক্তিশালী উপায়’ বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সরকারের পক্ষে জনসমুদ্র
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, কেরমান, জাহেদান, বিরজান্দ ও আরাকসহ বিভিন্ন শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ছবি, পবিত্র কোরআন ও জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরমানের রাস্তায় জনতা ‘আমেরিকার পতন’ কামনা করে স্লোগান দেয়। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিরজান্দে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘আমাদের জাতি জেগে উঠেছে এবং দাঙ্গাবাজদের ঘৃণা করে’। মধ্য ইরানের আরাক শহরেও বক্তারা বলেন, সমস্যা থাকলেও ইরানিরা বিদেশিদের হাতে নিজেদের ভাগ্য তুলে দেবে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দাবি ইরানের
ইরান সরকার দাবি করেছে, বিদেশি মদদপুষ্ট বিক্ষোভ এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং শিগগিরই ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতেই বিক্ষোভগুলোকে সহিংস ও রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের হুমকি ও সতর্কতা
অন্যদিকে, ইরান সরকারের দমন-পীড়নের জবাবে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আমরা কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছি, যার মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে। তবে বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

Comments
Post a Comment