সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

ভেনেজুয়েলায় ইসলামের বিস্তার: দাসপ্রথা থেকে আধুনিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ০৫, ২০২৬

 


দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ক্রমেই বাড়ছে ইসলামের দৃশ্যমানতা ও গ্রহণযোগ্যতা। একসময়ের স্পেনীয় উপনিবেশ ও বর্তমানে ভেনেজুয়েলা বলিভারীয় প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত এই দেশটিতে বর্তমানে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ মুসলমান বসবাস করছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন ২০২১’ অনুযায়ী, দেশটির মোট ২৯ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলমানরা এখন একটি উল্লেখযোগ্য ও প্রভাবশালী অংশ।

মুসলমানদের আগমনের ইতিহাস

ভেনেজুয়েলায় ইসলামের আগমনের ইতিহাস বেশ পুরনো। ঔপনিবেশিক যুগে উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আনা দাসদের মাধ্যমে প্রথম এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটে। তবে তৎকালীন শাসকদের কঠোর দমন-পীড়নের কারণে তারা গোপনে ধর্মচর্চা করতেন।

​পরবর্তীতে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুতে উসমানীয় শাসনের পতনের সময় লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে অভিবাসীরা ভেনেজুয়েলায় পাড়ি জমালে আধুনিক মুসলিম সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে। শুরুতে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী বা ‘কোতেরো’ হিসেবে কাজ শুরু করলেও কারাকাসে ‘লা তুরকেরিয়া’ নামে বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে তুলে তারা দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন।

আর্থসামাজিক ও পেশাগত উন্নয়ন

বিশ শতকের মাঝামাঝি ভেনেজুয়েলার তেল অর্থনীতির উত্থান মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও মুসলমানকে আকৃষ্ট করে। বর্তমানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের আরব-ভেনেজুয়েলানরা কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; চিকিৎসা, প্রকৌশল, উচ্চশিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।

ধর্মীয় স্থাপনা ও শিক্ষা

দেশটিতে ইসলামের সবচেয়ে বড় প্রতীক হলো রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত ‘শেখ ইব্রাহিম বিন আবদুল আজিজ আল ইব্রাহিম মসজিদ’। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত উসমানীয় স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদে রয়েছে লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ মিনার। এটি কেবল ইবাদতখানা নয়; বরং গ্রন্থাগার, ক্রীড়া কার্যক্রম ও সামাজিক সেবার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া কারাকাস ও মার্গারিটা দ্বীপের স্কুলগুলোতে জাতীয় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি আরবি ভাষা ও ইসলামী মূল্যবোধ শেখানো হচ্ছে। দেশটিতে হালাল পণ্যের বাজারও দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও স্বীকৃতি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ও ইরানের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্ব বেড়েছে। রমজানের মতো ধর্মীয় উৎসবগুলো এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে, যা ভেনেজুয়েলার জাতীয় জীবনে ইসলামের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।


Comments

Post a Comment