অবশেষে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। সাধারণ গ্রাহকদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন আগামী তিন মাস বন্ধ করা হবে না। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক বড় ব্যবধানে কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
শুল্ক কমল ৬০ শতাংশ, বৈধ হলো ‘স্টক লট’
উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা আনুপাতিক হারে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস। এছাড়া দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় তাদের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তাদের হাতে থাকা আমদানিকৃত মোবাইল ফোনগুলোকে (স্টক লট) কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো।
৩ মাস সময় ও প্রবাসীদের সুবিধা
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাধারণ গ্রাহকদের ফোন আগামী তিন মাস ব্লক করা হবে না। বিশেষ করে প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে বলা হয়েছে, তারা দেশে ফেরার পর ব্যবহৃত ফোন তিন মাসের কম সময় ব্যবহার করলে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে তিন মাসের বেশি অবস্থান করলে তখন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
এনইআইআর কেন জরুরি?
মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত খুনির কাছে ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া যাওয়ায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশে সিম সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও এনইআইআর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল শুল্ক কমানোর পরেই এনইআইআর কার্যকর করা হবে, যা আজ বাস্তবায়িত হলো।
বিটিআরসিতে হামলাকারীদের ছাড় নয়
সরকার সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও বিটিআরসি ভবনে যারা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলাকারীরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
অবৈধ সেটের বিরুদ্ধে অভিযান
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, এখন থেকে অবৈধ মোবাইল আমদানি রোধে দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের কাস্টমস হাউসে কঠোর অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সেট জব্দ করা হবে। সরকারকে এ বছর শুল্ক কমানোর কারণে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে হবে, তাই অবৈধ পথের আমদানি বন্ধে কঠোর হবে প্রশাসন।

Comments
Post a Comment