সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

চানখাঁরপুলে গণহত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

 


২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এছাড়া এই মামলার বাকি ৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সাজার বিবরণ

মামলার ৮ আসামির সবাই ঘটনার সময় ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে সাজার বিবরণ নিম্নরূপ:

  • মৃত্যুদণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। (এই তিনজনই পলাতক)।
  • কারাদণ্ড: রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে (পলাতক) ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • গ্রেপ্তারকৃতদের সাজা: শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আগ মুহূর্তে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র ব্যবহার করে। পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।

​এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ১০ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ১৯তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইঁয়া। গত ২৪ ডিসেম্বর শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পলাতক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও গ্রেপ্তার আসামিদের (পরিদর্শক ও কনস্টেবল) সাজার মেয়াদ কম হয়েছে বলে মনে করে রাষ্ট্রপক্ষ। তাই এই কম সাজার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল বিভাগে আপিল করবে।


Comments

Post a Comment