রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলিকে (১৭) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হোটেলকর্মী মো. মিলন মল্লিককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব সদর দপ্তর এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল মিলন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে বাগেরহাট সদর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের সূত্রমতে, গ্রেপ্তারের পর মিলন লিলিকে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
গত ১০ জানুয়ারি দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ১০ তলা এলাকার নিজ বাসায় খুন হয় রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী লিলি। নিহতের বড় বোন শোভা জানান, তিনি জিম থেকে বাসায় ফিরে দেখেন বোনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। প্রথমে মাথায় আঘাত মনে হলেও পরে দেখা যায় লিলির গলায় রশি প্যাঁচানো এবং বঁটি দিয়ে গলা কাটা।
পারিবারিক ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য
লিলির বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ চালান। ঘটনার দুদিন আগে তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে গিয়েছিলেন। বাসায় লিলি ও তার বড় বোন ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সজীব মিয়ার হোটেলের জায়গা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। মিলন ওই হোটেলেরই কর্মচারী ছিলেন এবং হোটেল বন্ধ থাকলেও তিনি সেখানেই অবস্থান করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Comments
Post a Comment