আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে এই বিপুল সংখ্যক ভোট ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এই পদ্ধতিতে ভোট দেবেন প্রবাসী ও ভোটের দায়িত্বে থাকা নাগরিকরা।
আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও এমআইএসটির বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নির্বাচন কমিশন এই পদ্ধতি চালু করেছে। আগ্রহী ভোটাররা প্রথমে নির্দিষ্ট অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। এরপর ডাকযোগে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোট দেওয়ার পর ভোটাররা আবার ডাকযোগেই তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠাবেন। এই প্রক্রিয়ার একাংশ প্রযুক্তি-নির্ভর হওয়ায় একে ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ভোটিং সিস্টেম’ বলা হচ্ছে।
পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক সংসদীয় আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ১০ হাজারের কম হয়ে থাকে। এবার অনেক আসনেই ১০ থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ফলে এই ভোটগুলো নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
কোন আসনে কত পোস্টাল ভোটার
সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে (১৬,০৯৩ জন)। এরপর রয়েছে:
- চট্টগ্রাম-১৫: ১৪,৩০১ জন
- কুমিল্লা-১০: ১৩,৯৭৭ জন
- নোয়াখালী-১: ১৩,৬৫৮ জন
এছাড়া ১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসনের মধ্যে রয়েছে—কক্সবাজার-৩, নোয়াখালী-৪, কুমিল্লা-৪ ও লক্ষ্মীপুর-২। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন এবং ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন নিবন্ধন করেছেন।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ও দেশভিত্তিক তথ্য
নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন দেশের ভেতরে ভোটের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী ও কয়েদি। বাকিরা প্রবাসী। প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন এসেছে সৌদি আরব থেকে (২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন)। এছাড়া মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান, আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন।
ভোটের প্রক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ভোটারদের কাছে দুটি ব্যালট পাঠানো হবে—একটি সংসদ নির্বাচনের, অন্যটি গণভোটের। ভোটাররা অ্যাপে প্রার্থী দেখে ব্যালটে সিল মেরে ডাকযোগে ফেরত পাঠাবেন। ডাক বিভাগের তথ্যমতে, বিদেশ থেকে চিঠি আসতে সর্বোচ্চ ২৮ দিন সময় লাগতে পারে। তাই প্রবাসীরা মূল নির্বাচনের আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
খরচ ও লক্ষ্যমাত্রা
এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ভোটার প্রতি ব্যয় হবে প্রায় ৭০০ টাকা। নির্বাচন কমিশন আশা করেছিল ৫০ লাখ ভোটার সাড়া দেবে, তবে শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যা কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তুতির (২০ লাখ ব্যালট) কাছাকাছি।
এই উদ্যোগকে গণতন্ত্র সুসংহত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

Comments
Post a Comment