সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি ইসলাম বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ধার্মিকতা: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬

 


মুফতি সাইফুল ইসলাম

​মানুষ স্বভাবগতভাবেই সহমর্মী। তবে সমাজের বাস্তবতায় বিধবা নারী ও অসহায় দরিদ্র শ্রেণি প্রায়শই অবহেলার শিকার হন। পরিবার হারানোর বেদনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় তাদের জীবন হয়ে ওঠে সংগ্রামমুখর। ইসলাম এই দুর্বল ও অসহায় মানুষদের কষ্টকে কেবল মানবিক অনুভূতির বিষয় হিসেবে দেখেনি, বরং একে ঈমানের গভীরতার মানদণ্ড হিসেবে স্থাপন করেছে।

​কোরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সমাজের প্রান্তিক মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করা অনেক উচ্চ মর্যাদার ইবাদত।

হাদিসের আলোকে মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বিধবা ও মিসকিনদের সহায়তাকারীকে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য বলে ঘোষণা করেছেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন:

​‘যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকিনের ভরণ-পোষণের জন্য চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো; অথবা সে ওই ব্যক্তির মতো, যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০০৬)


​এই হাদিসের মাধ্যমে সমাজসেবাকে ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তর—জিহাদ, সিয়াম ও কিয়ামের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কষ্ট লাঘব করা ইসলামে কোনো গৌণ কাজ নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের শক্তিশালী মাধ্যম।

কোরআনের নির্দেশনা

পবিত্র কোরআনেও অসহায়দের জন্য ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

​‘তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে—কী ব্যয় করবে? বলো, যা কিছু ব্যয় করবে, তা হবে পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২১৫)


​অন্য আয়াতে নেককারদের গুণাবলি বর্ণনায় বলা হয়েছে:

​‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় খাদ্য দান করে মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দিদের।’ (সুরা: আল-ইনসান, আয়াত: ৮)


ইসলামি স্কলারদের অভিমত

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইবনে হাজর আল-আসকালানি (রহ.) তাঁর ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, বিধবা ও মিসকিনের সেবাকে জিহাদের সঙ্গে তুলনা করার কারণ হলো—এতে রয়েছে অবিরাম চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মত্যাগ, যা নফসের বিরুদ্ধে এক প্রকার সংগ্রাম। নিয়ত বিশুদ্ধ হলে এই সেবা ধারাবাহিক ইবাদতে পরিণত হয়।

বাস্তব দৃষ্টান্ত ও শিক্ষা

ইসলামের ইতিহাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা এই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ দেখিয়েছেন। খলিফা ওমর (রা.) রাতের আঁধারে অসহায়দের জন্য নিজের কাঁধে খাদ্য বহন করতেন, যা কেবল শাসকের দায়িত্ব নয়, ঈমানি দায়বদ্ধতারও প্রমাণ।

​প্রকৃত ধার্মিকতা কেবল মসজিদকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিধবার চোখের অশ্রু মোছাও ইবাদত। আমাদের ঈমানি দায়িত্ব হলো সমাজের এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো।


Comments

Post a Comment