সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

সোমালিয়ার বর্তমান সংকট ও ‘ব্ল্যাক হক ডাউন’র প্রভাব: মার্কিন নীতির পালাবদল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ০৫, ২০২৬

 


আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। দারিদ্র্যের কশাঘাত এবং ট্রাইবাল লিডারদের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান হিসেবে রয়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাবের হামলার ঝুঁকি। তবে দেশটির এই পরিস্থিতির পেছনে মোগাদিসুর যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রভাব এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের বিষয়টিও জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে।

‘দ্য ব্ল্যাক হক ডাউন ইফেক্ট’ ও মার্কিন নীতি

মোগাদিসুর যুদ্ধ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় সংঘাত। টেলিভিশনের পর্দায় মোগাদিসুর রাস্তায় মার্কিন সেনাদের লাশ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সাধারণ আমেরিকানরা। এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত ছিল সুদূরপ্রসারী, যা আফ্রিকায় মার্কিন নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

​বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মোগাদিসুতে মার্কিন বাহিনীর সেই বিপর্যয়। এই ঘটনাটি ইতিহাসে ‘দ্য ব্ল্যাক হক ডাউন ইফেক্ট’ নামে পরিচিত।

মানবিক সহায়তা থেকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ

মোগাদিসুর ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র সোমালিয়া থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি, বরং কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। মানবিক সহায়তা মিশনের পরিবর্তে ওয়াশিংটনের ভূমিকা এখন মূলত সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকেন্দ্রিক।

​জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো যাতে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সৈন্য মোতায়েনের পথে হাঁটছে না। এর বদলে ইথিওপিয়ার সহযোগিতায় নিয়মিত কমান্ডো মিশন ও বিমান হামলা চালাচ্ছে।

  • ​২০০৭ সালে কেনিয়া ও তানজানিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে হামলার সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে সোমালিয়ায় গানশিপ হামলা চালানো হয়।
  • ​২০০৮ সালেও অনুরূপ বিমান হামলা চালানো হয়।
  • ​এছাড়া সোমালি উপকূলে জলদস্যুতা প্রতিরোধে মার্কিন নৌবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

সেলুলয়েডের পর্দায় যুদ্ধের ভয়াবহতা

মোগাদিসুর সেই লোমহর্ষক যুদ্ধের ঘটনা সাংবাদিক মার্ক বাউডেন তাঁর ‘ব্ল্যাক হক ডাউন’ বইয়ে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে এই বইয়ের ওপর ভিত্তি করে ২০০১ সালে বিখ্যাত পরিচালক রিডলি স্কট একই নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করেন।

​৯২ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত ১৪৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই সিনেমাটি বক্স অফিসে ১৭৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে। জশ হার্টনেট, এরিক বানা ও অরল্যান্ডো ব্লুম অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি যুদ্ধের ভয়াবহতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে।


Comments

Post a Comment