![]() |
| সাফিকুর রহমান |
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিরা নিজেরাই অপরাধ স্বীকার করতে সম্মত হওয়ায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা একান্ত প্রয়োজন ছিল। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানসহ মামলার অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।
ভয়াবহ এই নির্যাতনের ঘটনাটি সামনে আসে গত ১ ফেব্রুয়ারি, যখন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা এবং পেশায় হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রলোভনে গত বছরের জুন মাসে শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গত ২ নভেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে শিশুটির সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং বাসায় আটকে রেখে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে শিশুটির বাবাকে জানান যে তার মেয়ে অসুস্থ এবং তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। মোস্তফা মেয়ের শরীরে গুরুতর জখম এবং পোড়া দাগ দেখে আঁতকে ওঠেন। পরবর্তীতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর শিশুটি জানায়, ওই বাসায় তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। এই অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে দায়ের করা মামলায় একে একে সব আসামি এখন আইনের জালে বন্দি রয়েছেন।

Comments
Post a Comment