সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

আদালতের রায়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প 

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একতরফা শুল্ক নীতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত উপেক্ষা করে তিনি বৈশ্বিক শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় এবং দশকের পর দশক ধরে চলা বৈশ্বিক ‘প্রতারণা’ বন্ধে তিনি আইনগতভাবে অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা তথা ১৫ শতাংশ শুল্ক অবিলম্বে কার্যকর করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর এই অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও আইনি লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করল।

​এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছিল, কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করতে পারেন না। আদালত ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্পের নেওয়া শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে এই রায়ের পর বিচারপতিদের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প দ্রুত ১৯৭৪ সালের ‘ট্রেড অ্যাক্ট’-এর সেকশন ১২২-এর অধীনে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এই বিশেষ ধারায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকলেও তা ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখতে হলে পুনরায় কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে, যা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করেননি।

​হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন শুল্ক কাঠামোতে কিছু জরুরি পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, ধাতু এবং জ্বালানি পণ্যকে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হতে পারে। ট্রাম্প তাঁর এই শুল্ক নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং মাদক পাচার ও বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যের অজুহাতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপের আইনগত পথ খুঁজছে।

​ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আগের বিতর্কিত শুল্ক নীতি থেকে মার্কিন ট্রেজারি ইতোমধ্যে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ ও বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখন সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে একদিকে ট্রাম্প যেমন নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে আদায়কৃত বিশাল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার চাপ হোয়াইট হাউসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই আইনি ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্বনেতাদের।


Comments

Post a Comment