![]() |
| রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী |
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পরপরই ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং পরে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যরা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। একে একে তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি পালন ঐতিহাসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান শ্রদ্ধা নিবেদনে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া বিরোধী দলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ মিনারে আসতে শুরু করেন। পুরো এলাকায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশেই আজ নানা আয়োজনে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে।

Comments
Post a Comment