আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে চলমান সামরিক সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, আফগানিস্তানের খোস্ত এলাকায় পাকিস্তান আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় তালেবান কর্মকর্তারা। পাল্টাপাল্টি এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ট্রাম্পের অবস্থান: ‘আমি নাক গলাব না’
দুই দেশের এই ভয়াবহ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এতে জড়াতে চান না। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন:
- ব্যক্তিগত সম্পর্ক: ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং জেনারেলের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’।
- হস্তক্ষেপ না করা: তিনি চাইলেই মধ্যস্থতা করতে পারেন, তবে এই মুহূর্তে পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার ওপর ভরসা রেখে তিনি বিষয়টিকে তাঁদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
রণক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতি: উভয় পক্ষের দাবি
পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আফগান তালেবান প্রশাসন একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে:
- পাকিস্তানের দাবি: পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী ২৭৪ জন তালেবান সেনা নিহত এবং ৪০০-এর বেশি আহত হয়েছেন।
- তালেবানের পাল্টা তোপ: তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট আড়াল করতে আফগানিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রস্তাব
সীমান্তে এই মানবিক ও সামরিক বিপর্যয় রোধে বিশ্বের তিন বড় শক্তি চীন, রাশিয়া এবং ইরান ইতোমধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা মনে করে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই দেশগুলোর টেবিলে বসতে রাজি হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি: আফগানিস্তানের খোস্ত এবং ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন। পাকিস্তান দাবি করছে তারা কেবল টিটিপি (TTP) জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে তালেবান একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

Comments
Post a Comment