সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

 


পাকিস্তানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। রোববার ভোরে সীমান্তবর্তী পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও যুদ্ধবিমান থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার জেরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো পাকতিকার একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু জায়গায় হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।

​পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগীদের সাতটি প্রধান ক্যাম্প ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, সম্প্রতি ইসলামাবাদ, বাজাউর এবং বান্নুতে হওয়া প্রাণঘাতী হামলাগুলোর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা আফগানিস্তানে অবস্থানরত টিটিপি ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতারা দিয়েছেন, যার ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদের খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে ৩১ জন মুসল্লির নিহতের ঘটনা এবং বান্নুতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ সেনা সদস্যদের ওপর আত্মঘাতী হামলার পেছনে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহৃত হয়েছে বলে ইসলামাবাদের অভিযোগ।

​দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বারবার সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে হওয়া বোমা হামলাটি ছিল গত তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ঘটনা, যা পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, বাজাউরের আত্মঘাতী হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিল, যা সরাসরি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গিবাদের ইঙ্গিত দেয়।

​রোববারের এই বিমান হামলার পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যেন তালেবান সরকারকে ২০২০ সালের দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি পালনে বাধ্য করা হয়। ওই চুক্তিতে আফগান মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে না দেওয়ার অঙ্গীকার ছিল। ইসলামাবাদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গত অক্টোবর থেকে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বিমান হামলা প্রতিবেশী দেশ দুটির ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Comments

Post a Comment