সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

রিজার্ভে ১২ বিলিয়ন ডলারের উল্লম্ফন: সফল মিশন শেষে বিদায় নিলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

 

মার্কিন ডলার
​বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দেড় বছরের বর্ণাঢ্য দায়িত্ব পালন শেষে ৩২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী রিজার্ভ রেখে বিদায় নিয়েছেন আহসান এইচ মনসুর। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব ছাড়ার দিনে আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের এই অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গ্রস হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যেখানে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, সেখানে মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনীতির বড় ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

​২০২১ সালে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে উঠলেও পরবর্তী দুই বছরে ভুল মুদ্রানীতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের বাজারের অস্থিরতায় তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ নিট রিজার্ভ ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসায় দেশের অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও ঘনীভূত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মনসুর বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নীতি, আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবাসী আয়ে গতি ফেরাতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যার সুফল মিলতে শুরু করে দ্রুতই।

​রিজার্ভ পুনর্গঠনের প্রধান হাতিয়ার ছিল প্রবাসী আয়ের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত নীতিগুলো এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা শুরু করে। শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাজার থেকে ৫ হাজার ৪৬৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্রয় করা হয়েছে, যা সরাসরি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।

​বিদায়ী গভর্নরের এই দেড় বছরের মেয়াদে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল হয়েছে, যা আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা দূর করেছে। যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক পর্যায়ে রিজার্ভ ১৮ দশমিক ৪৬ বিলিয়নে নেমে গিয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছিল, কিন্তু সঠিক নীতিনির্ধারণের ফলে তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তলানিতে নেমে যাওয়া রিজার্ভকে পুনরায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে যাওয়া শুধু সংখ্যাগত অর্জন নয়, বরং এটি ভেঙে পড়া অর্থনীতিতে বৈশ্বিক আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি সফল প্রক্রিয়া।


Comments

Post a Comment