![]() |
| হরমুজ প্রণালী |
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘সায়াদ-৩জি’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আয়োজিত ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ নামক সামরিক মহড়া চলাকালীন এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। শনিবার আইআরজিসি প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ‘শহীদ সায়াদ শিরাজি’ নামক যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের উদ্দেশ্যে ছোড়া হচ্ছে। সায়াদ-৩জি মূলত ইরানের পরিচিত ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সায়াদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি উন্নত নৌ সংস্করণ।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উল্লম্ব উৎক্ষেপণ বা ভার্টিকাল লঞ্চ সক্ষমতা, যা সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতিতেও দ্রুত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে। সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বা রেঞ্জ ধরা হয়েছে ১৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৯৩ মাইল)। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে ‘শহীদ সোলাইমানি’ শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলো এখন সাগরে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের বিমান বা ড্রোন আক্রমণ থেকে ইরানি নৌবহরকে আরও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইরান প্রথমবারের মতো সায়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলভিত্তিক সংস্করণের পরীক্ষা চালিয়েছিল। সেই সংস্করণটির পাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ৯০০ কেজি। এবারের নৌ সংস্করণে পাল্লা আরও ৩০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও সমৃদ্ধ হলো বলে মনে করা হচ্ছে। মহড়াটি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে টানা তিন দিন ধরে চলে, যেখানে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং নৌ কমান্ডোদের সমন্বয়ে বিভিন্ন যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করা হয়।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই শক্তিমত্তা প্রদর্শন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ইরানের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক ভারসাম্য আরও সুসংহত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Comments
Post a Comment