![]() |
| বিল গেটস |
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতের যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সম্প্রতি ‘গেটস ফাউন্ডেশন’-এর কর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই বিষয়ে নিজের দায়ভার গ্রহণ করেন এবং তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে বিল গেটস স্পষ্ট করে বলেন, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি ‘বড় ভুল’ ছিল। তিনি বলেন, “আমি যে ভুল করেছি এবং আমার এই ভুলের কারণে অন্য যারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।” সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত যেসব নতুন নথি ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেখানে বিল গেটসের নাম ও একাধিক বৈঠকের তথ্য উঠে আসার পর এই বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে।
বিল গেটসের ব্যাখ্যা ও অবস্থান:
- যোগাযোগের উদ্দেশ্য: গেটস জানান, এপস্টেইন নিজেকে প্রভাবশালী ধনকুবেরদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং দাবি করতেন যে তিনি গেটস ফাউন্ডেশনের দাতব্য কাজের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করে দিতে পারবেন। মূলত এই আশাতেই তিনি যোগাযোগ রেখেছিলেন।
- মেলিন্ডার সতর্কতা: বিল গেটস স্বীকার করেন যে, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস শুরু থেকেই এপস্টেইনের বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন এবং তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। মেলিন্ডার সেই দূরদর্শিতাকে তিনি এখন সাধুবাদ জানান।
- ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ছবি: প্রকাশিত নথিতে কিছু নারীর সঙ্গে বিল গেটসের ছবি পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সেগুলো ছিল এপস্টেইনের সহকারীদের সঙ্গে তোলা সাধারণ ছবি। এছাড়া দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা এপস্টেইন জানতেন বলে তিনি স্বীকার করলেও জোর দিয়ে বলেন, সেই সম্পর্কের সঙ্গে এপস্টেইনের অপরাধের কোনো যোগসূত্র নেই।
- নির্দোষ থাকার দাবি: গেটস কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি কখনো কোনো বেআইনি কাজ করেননি এবং এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কোনো সময় কাটাননি।
গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এপস্টাইনের মাধ্যমে বড় কোনো তহবিল সংগ্রহের আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। এমনকি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এপস্টেইনকে কোনো কাজও দেওয়া হয়নি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই যোগাযোগ বজায় ছিল বলে গেটস স্বীকার করেছেন, যদিও সে সময় এপস্টেইন যৌন অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করেছিলেন।

Comments
Post a Comment