প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তৃতীয় কর্মদিবসে প্রথমবারের মতো তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই দিনে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের মসজিদগুলোর খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পর্যায়ক্রমে এই সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাধারণ নাগরিকের মতো ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে এবং যানজটে অপেক্ষা করে দপ্তরে পৌঁছান, যা তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি পরিহারের এক অনন্য উদাহরণ। কার্যালয়ে প্রবেশ করেই তিনি একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে যারা তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
ধর্মীয় নেতাদের ভাতার বিষয়ে ড. মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি টেকনিক্যাল ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করবে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে আলেম-ওলামা ও ধর্মগুরুরা সরকারি এই সম্মানী পেতে শুরু করবেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।
বৈঠকে ভাতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কারের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সারা দেশে মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নীতিমালা সহজীকরণ বা ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে দ্রুত বেকারত্ব দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Comments
Post a Comment