সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে তা বাতিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে ব্যাপক হারে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার যে পদক্ষেপ ট্রাম্প নিয়েছিলেন, তা আইনত বৈধ নয়। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে এই রায় প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের সবচেয়ে বিতর্কিত অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ল।

​আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে এককভাবে বা একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের অসীম ক্ষমতা প্রদান করে না। রায়ে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে এমন বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক, যা ট্রাম্প প্রশাসন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারপতিরা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন।

​দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ককে তার প্রশাসনের প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। চীন, কানাডা এবং মেক্সিকোসহ ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর পণ্যের ওপরও তিনি ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন। পেনওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এই বিতর্কিত আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন এ পর্যন্ত ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক আদায় করেছে, যা সাধারণ আমেরিকানদের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়িয়েছিল।

​সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মেক্সিকো ও কানাডার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ প্রশমিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিল। এখন থেকে যে কোনো বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনকে কংগ্রেসের সাথে সমঝোতা বা আইনগত অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।


Comments

Post a Comment