প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন (SOTU) ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে আনা কঠোর অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান, অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ‘গোপন ব্রিফিং’ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ইরানের পাল্টা তোপ: ‘সবই বড় মিথ্যা’
ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোকে ‘বড় মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে:
- পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: ইরান দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ভিত্তিহীন।
- বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা: বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহতের যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, তাকে সম্পূর্ণ সাজানো ও অতিরঞ্জিত প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেছে তেহরান।
নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তা ও সামরিক অভিযানের চাপ
চলতি মাসে হোয়াইট হাউস সফর করা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে যেকোনো শিথিল চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে:
- চুক্তিতে অবশ্যই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর (হিজবুল্লাহ, হামাস ইত্যাদি) প্রসঙ্গ থাকতে হবে।
- বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহু বর্তমানে ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত করতে সরাসরি সামরিক অভিযানের পক্ষে ওয়াশিংটনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
কংগ্রেসে ‘গ্যাং অব এইট’ ব্রিফিং ও শুমারের উদ্বেগ
ট্রাম্পের ভাষণের ঠিক আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের উভয় দলের শীর্ষ আট নেতা (গ্যাং অব এইট) এবং গোয়েন্দা কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
- গোপন ব্রিফিং: এই ব্রিফিংয়ে ইরানের বর্তমান সামরিক তৎপরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা হয়।
- চাক শুমারের প্রতিক্রিয়া: ব্রিফিং শেষে সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রশাসনকে অবশ্যই মার্কিন জনগণের কাছে তাদের অবস্থান ও পরিকল্পনা পরিষ্কার করতে হবে।
প্রেক্ষাপট: বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও দীর্ঘকাল ধরে তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই দুই শক্তির হার্ডলাইন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Comments
Post a Comment