সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় কারাবন্দি যুবলীগ নেতা সোহেল রানা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার একটি মাদরাসা মসজিদে নিজের মায়ের জানাজায় অংশ নিতে তাকে কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয়। জানাজা শুরুর আগে সোহেল রানা সেখানে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন এবং অতীতের সকল ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় সোহেল রানাকে সাভারে নিয়ে আসা হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমার মায়ের আত্মার শান্তির জন্য সবাই দোয়া করবেন। সেই সঙ্গে আমার সকল ভুলের জন্য আপনাদের কাছে মাফ চাইছি, আমাকে সবাই মাফ করে দেবেন।” উল্লেখ্য, সোহেল রানার মা মর্জিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর সংবাদে প্যারোলের আবেদন জানালে কর্তৃপক্ষ তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য মুক্তির অনুমতি দেয়।
সোহেল রানার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে সাভারে আনা হয় এবং জানাজা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যেই পুনরায় পুলিশের পাহারায় কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৩ সালের সেই ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের পর এটিই ছিল সোহেল রানার প্রথমবার প্রকাশ্য জনসম্মুখে আসা। ইতিহাসের অন্যতম বড় এই শিল্প দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন পর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সেই থেকে তিনি টানা কারাবাস করছেন।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ১০ তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। সেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে সোহেল রানা এখনো বিচারাধীন রয়েছেন। মায়ের শেষ বিদায়ে তাঁর এই ক্ষণিক মুক্তি এবং জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Comments
Post a Comment