মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে এ অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি তাদের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে এ অঞ্চল থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বিশ্ববাজারে রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
- হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি: আইআরজিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
- আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ববর্তী আলোচনার ‘তিক্ত অভিজ্ঞতার’ কারণে আবারও নতুন করে আলোচনায় বসার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্পের ‘২০ গুণ শক্তিশালী’ হামলার হুমকি
ইরানের এই হুমকির জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।
- পাল্টা হুমকি: ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি তেল প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
- পেন্টাগনের লক্ষ্য: পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই বর্তমানে তাদের সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
সংঘাতের ফলে কেবল সামরিক নয়, মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে:
- বেসামরিক হতাহত: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
- পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, ইরানের তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ওই অঞ্চলে খাদ্য, পানি ও বায়ু দূষণের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
- তেলের বাজার: হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হওয়ায় সোমবার তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আশাবাদ জানানোর পর মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।
জনমত ও অভ্যন্তরীণ চাপ: যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ আমেরিকান তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন এবং মাত্র ২৯ শতাংশ এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।

Comments
Post a Comment