ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং দীর্ঘ দুই সপ্তাহের বিধ্বংসী বিমান হামলার পরও দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা 'রেজিম' টিকে আছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো স্বীকার করছে যে, ইরানে হামলার সময় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো বাস্তবসম্মত বা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তাদের ছিল না। বরং তাদের আশা ছিল হামলার পর সাধারণ ইরানিরা রাজপথে নেমে বিদ্রোহ করবে, যা শেষ পর্যন্ত ঘটেনি।
বর্তমানে এই যুদ্ধের প্রকৃত সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সংরক্ষিত ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম: যুদ্ধের আসল চাবিকাঠি
ইসরায়েলি ও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনে সংঘাত শুরুর পর এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম একটি পাহাড়ের নিচে অত্যন্ত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- পারমাণবিক সক্ষমতা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে অন্তত ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব।
- পিরিক ভিক্টরি (Pyrrhic Victory): সামরিক গোয়েন্দা গবেষণা বিভাগের সাবেক উপপ্রধান জোয়াব রোসেনবার্গ সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ শেষে যদি এই ইউরেনিয়াম ইরানের হাতেই থেকে যায়, তবে ইসরায়েলের এই জয় আসলে ‘পরাজয়’ হিসেবেই গণ্য হবে। কারণ, এর ফলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ‘কাউন্টডাউন’ আরও ত্বরান্বিত হবে।
মোজতবা খামেনি ও নতুন হুমকি
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- খামেনি তাঁর আমলে পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুললেও অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।
- তবে মোজতবা খামেনি সম্পর্কে ইসরায়েলের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি তাঁর পিতার চেয়ে আরও কট্টর হতে পারেন এবং দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে হাঁটতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান অবস্থা ও ট্রাম্পের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে পেন্টাগন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কমান্ডো অভিযানের কথা বিবেচনা করছে, যার লক্ষ্য হবে পাহাড়ের নিচে লুকানো সেই ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার জব্দ করা অথবা ধ্বংস করা। যুদ্ধের আগে প্রস্তাব উঠেছিল ইরান যেন এই ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ চিত্র: সংঘাতের বিস্তার?
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে তারা লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সংঘাত ছড়িয়ে দিতেও প্রস্তুত, যেন ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে না পারে। তবে ওয়াশিংটন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে না চাইলে ইসরায়েলের এই কৌশল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

Comments
Post a Comment