সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

বীরত্বগাথা ও ত্যাগের ৫৬ বছর: আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬

 


আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার শিকল ভেঙে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার পথে পা বাড়িয়েছিল বাঙালি জাতি। আজ গর্বিত বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৬ বছরে পদার্পণ করল।

​সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

​১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর প্রায় ১৯০ বছর চলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পূর্ব বাংলার মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করা হয়, যেখানে শুরু থেকেই জেঁকে বসে শোষণ ও বৈষম্য।

​অধিকার আদায়ের ধারাবাহিক আন্দোলন

​পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্র-জনতা সোচ্চার হয়ে ওঠে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।

​অপারেশন সার্চলাইট ও স্বাধীনতার ঘোষণা

​১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আলোচনার আড়ালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন এবং নিরস্ত্র বাঙালির ওপর সশস্ত্র হামলার নির্দেশ দেন। 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে শুরু হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এই প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। বিশ্ব মানচিত্রে উদয় হয় 'বাংলাদেশ' নামক এক স্বাধীন রাষ্ট্রের।

​নয় মাসের যুদ্ধ ও চূড়ান্ত বিজয়

​২৫ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগে চালানো নারকীয় হামলার প্রতিবাদে সর্বস্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও বুদ্ধিজীবীদের সম্মিলিত প্রতিরোধে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

​যথাযোগ্য মর্যাদায় ও রাষ্ট্রীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে এই মহান দিবসটি। দেশজুড়ে আজ সরকারি ছুটি।


Comments

Post a Comment