প্রায় অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষার পর মানুষ আবার ঘুরে এলো চাঁদের কক্ষপথ থেকে। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।
রেকর্ড দূরত্বে মানুষের যাত্রা
প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছান — যা মানুষের মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে অন্যতম গভীরতম ভ্রমণ।
অবতরণের পরপরই মিশন কমান্ডার রেইড উইসম্যান জানান, চারজন নভোচারীই সুস্থ এবং ক্যাপসুল সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। নাসার ভাষ্যকাররা পুরো অবতরণকে বর্ণনা করেছেন 'একেবারে নিখুঁত' বলে।
আগুনের ভেতর দিয়ে পৃথিবীতে প্রবেশ
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ক্যাপসুলটির গতি ছিল শব্দের ৩২ গুণ এবং তাপমাত্রা পৌঁছায় প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। এই চরম পরিস্থিতিতে হিট শিল্ড নিখুঁতভাবে কাজ করে — মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ওরিয়ন।
আয়নিত গ্যাসের কারণে কিছু সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পরিকল্পনামতো প্যারাশুটের সাহায্যে নিরাপদে পানিতে নামে ক্যাপসুলটি। উদ্ধারকারী দল দুই ঘণ্টারও কম সময়ে চারজনকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নেয়।
যাঁরা ইতিহাস লিখলেন
এই মিশনে অংশ নেন চারজন নভোচারী। তাদের মধ্যে —
ভিক্টর গ্লোভার — প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদমুখী মিশনে
ক্রিস্টিনা কোচ — প্রথম নারী
জেরেমি হ্যানসেন (কানাডা) — প্রথম অ-আমেরিকান
তারা ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে যাত্রা করে চাঁদের অদৃশ্য অংশ পর্যন্ত ঘুরে আসেন — অ্যাপোলো যুগের পর এই প্রথম।
চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে
আর্টেমিস-২ নাসার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য — ২০২৮ সালের মধ্যে আবার মানুষকে চাঁদের মাটিতে নামানো, যেখানে শেষবার পা পড়েছিল ১৯৭২ সালে, অ্যাপোলো-১৭ মিশনে।
নাসার কর্মকর্তারা বলছেন, এই মিশন ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পথও প্রশস্ত করবে। উল্লেখ্য, চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে — মহাকাশে দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।
বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা
মিশনের শেষ মুহূর্তের সরাসরি সম্প্রচার দেখেছেন লাখো মানুষ। একাই নাসার ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হন ৩০ লাখেরও বেশি দর্শক। এই সফল প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আজও মানবজাতিকে বিস্মিত করতে সক্ষম।

Comments
Post a Comment