সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি রাজনীতি বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

২০ অধ্যাদেশ বাতিল — ত্রুটি সারিয়ে শক্তিশালী আইন আনার প্রতিশ্রুতি বিএনপির

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬


জাতীয় সংসদ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা মোট ২০টি অধ্যাদেশ এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল আকারে পাস না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (ল্যাপস) হয়েছে এবং চারটি রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে আরও সাতটি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে — বাতিল অধ্যাদেশগুলো ত্রুটিমুক্ত করে আরও শক্তিশালী বিল আকারে সংসদে আনা হবে।

কোন কোন অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে?

ল্যাপস হওয়া ১৩টি অধ্যাদেশ:

গণভোট, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ (দুটি), দুদক সংশোধন, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, তথ্য অধিকার সংশোধন, কাস্টমস সংশোধন, আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন, ট্রাভেল এজেন্সি সংশোধন এবং রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ।

রহিত হওয়া ৭টি অধ্যাদেশ:

সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (দুটি), জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ।

প্রভাব কতটা গভীর?

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাতিলে একটি বড় আইনি শূন্যতা তৈরি হয়েছে —

দুদক আইনের সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সরকারের অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না দুর্নীতি দমন কমিশন। মানবাধিকার কমিশনকে ফিরতে হবে ২০০৯ সালের পুরনো আইনে, ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা হারাবে সংস্থাটি। উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ ও নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফিরে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ও বিলুপ্ত হয়েছে।

তারেক রহমান যা বললেন

গত ৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। দলীয় এমপিরা বিচার বিভাগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলে জনমনে বিভ্রান্তির বিষয়টি তাকে অবহিত করেন।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, "জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। আমরা একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।"

আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা পালন করা হয়েছে। তবে কোনগুলো উপস্থাপন করা হবে, সেই এখতিয়ার সরকারের রয়েছে। তিনি আরও জানান, দুদক ও মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্তসহ ১৬টি অধ্যাদেশ বিরোধী দলের সঙ্গে পরামর্শ শেষে আরও শক্তিশালী করে পরে আনা হবে।

বিরোধীদের ক্ষোভ ও ওয়াকআউট

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে যে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল সরকার তা ভঙ্গ করেছে। ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ উত্থাপনই করা হয়নি বলে তিনি তীব্র নিন্দা জানান। এর প্রতিবাদে শেষ দিনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সংসদীয় কমিটিতে বিচার বিভাগীয় অধ্যাদেশগুলো হুবহু রাখার পক্ষে 'নোট অব ডিসেন্ট' দাখিল করেছে।

সামনে কী?

আগামী ১৫ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন পুনরায় বসবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান জানিয়েছেন, বাতিল অধ্যাদেশগুলো আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাতিল অধ্যাদেশ ও নতুন বিল নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে উত্তাপ আরও বাড়বে।


Comments

Post a Comment