ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই লেবাননে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৫ জন।
হতাহতের বিভীষিকা
সবচেয়ে বেশি রক্তপাত হয়েছে রাজধানী বৈরুতে, যেখানে ৯২ জন নিহত এবং ৭৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে ৬১ জন, নাবতিয়াহতে ২৮ জন এবং টায়ারে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বালবেক, হারমেল এবং সিদন এলাকাতেও অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছেন।
নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননের হিজবুল্লাহ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। তিনি বলেন, "আমরা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখছি। আমরা এমন সব স্থানে আঘাত হেনেছি যেখানে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করত।"
কাতারের নিন্দা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এই ‘নৃশংস হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলকে এই বর্বর গণহত্যা বন্ধে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এই ধ্বংসযজ্ঞকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "শান্তি আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ধরনের রক্তপাত অবিশ্বাস্য। এটি একটি নাজুক শান্তির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।" আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
সংকটে যুদ্ধবিরতি চুক্তি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলা মধ্যপ্রাচ্যে প্রস্তাবিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে।

Comments
Post a Comment