![]() |
| সংসদ |
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত ও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে বেতন-ভাতা ও সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। সংসদ সদস্য পারিশ্রমিক ও ভাতা আদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত আইনে সব এমপির জন্য সুবিধা একই।
বেতন ও নিয়মিত ভাতার বিষয়ে জানা যায়, প্রতি মাসে মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর বাইরে নির্বাচনি এলাকা ভাতা ১২ হাজার ৫০০ টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ৫ হাজার টাকা, পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা এবং অফিস ব্যয় ভাতা ১৫ হাজার টাকা পান। পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ ব্যয় ভাতা ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নির্ধারিত।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়া যায়। দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে দৈনিক ৭৫০ টাকা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও পান এমপিরা। রেল, বিমান বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।
বড় সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন এমপি তার মেয়াদকালে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়াই আমদানি করতে পারেন এবং পাঁচ বছর পর আবারও একই সুবিধায় নতুন গাড়ি আনতে পারেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমপি ও তার পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা পান, পাশাপাশি মাসে ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতাও দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা, যা দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। টেলিযোগাযোগ সুবিধায় বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগসহ মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এমপিরা যেসব ভাতা পান তার সবকটিই আয়করমুক্ত। এছাড়া ঢাকার সংসদ ভবন সংলগ্ন ন্যাম ভবনে একটি আলিশান ফ্ল্যাটও বরাদ্দ পান তারা। বিগত সময়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় প্লটও পেয়েছেন এমপিরা।

Comments
Post a Comment