সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প ‘ব্যাকুল’: সতর্কবার্তা দিলেন জেডি ভ্যান্স

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৮, ২০২৬

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে অত্যন্ত ‘ব্যাকুল’ বা অধীর হয়ে আছেন। তিনি তার আলোচক দলকে পূর্ণ সদিচ্ছা নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার নির্দেশনা

বুধবার হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে এক অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চান। তিনি আমাকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ পুরো আলোচক দলকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা সদিচ্ছা নিয়ে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করি।” ভ্যান্সের মতে, ইরান যদি আন্তরিকতা দেখায়, তবে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি ও সতর্কতা

বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে বর্ণনা করে ভ্যান্স সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থার একটি অংশ ইতিবাচক সাড়া দিলেও অন্য কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্য এবং যুদ্ধবিরতির প্রকৃতি নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ করছে। এই ভিন্নমুখী অবস্থানের কারণেই পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত বলে তিনি মনে করেন।

ইসলামাবাদ বৈঠক ও ট্রাম্পের শর্ত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই চুক্তি কার্যকর হতে হলে ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালিতে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ওপর দেওয়া অবরোধ পুরোপুরি স্থগিত করতে হবে। জেডি ভ্যান্স নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরান জলপথটি খুলে দিতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে।

ইরানের পাল্টা অবস্থান

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান পাল্টা হামলা বন্ধ করতে এবং জলপথে যাতায়াতের সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তবে তার শর্ত হলো—ইরানের ওপর সব ধরনের মার্কিন হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনার টেবিলে ইরান যদি আন্তরিকতা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের পথে ফিরে যাবেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, “তারা (ইরান) শিগগিরই বুঝতে পারবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন কেউ নন যাকে নিয়ে হেলাফেলা করা যায়।”


Comments

Post a Comment