সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ লোড করা হচ্ছে...
আপনি বাংলাদেশ বিষয়ক এই লেখাটি পড়ছেন

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৯, ২০২৬

 

আবু সাঈদ
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আইকনিক চরিত্র, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করবেন।

বিচারিক কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ

গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAIV) রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের দাবি ও প্রমাণ

প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিওর মাধ্যমে তারা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর তৎকালীন প্রশাসনের প্রচণ্ড চাপ ও হুমকির বিষয়টিও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে।

আসামিপক্ষের যুক্তি

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যদের আইনজীবীরা তাদের বেকসুর খালাস দাবি করেছেন। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, আবু সাঈদের শরীরে গুলির অস্তিত্ব এক্স-রে পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি এবং জব্দকৃত টি-শার্টে কোনো ছিদ্র ছিল না। এছাড়া তারা দাবি করেছেন, আবু সাঈদের হাতে লাঠি থাকায় তাকে ‘নিরস্ত্র সিভিলিয়ান’ হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

আসামিদের পরিচয়

মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদ, আরএমপি কমিশনার মনিরুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতা রয়েছেন।

  • গ্রেপ্তারকৃত (৬ জন): এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ।
  • পলাতক (২৪ জন): ভিসি, পুলিশ কমিশনারসহ বাকি আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের বীরত্বগাথা সারা দেশে আন্দোলনকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিও চিত্রই পরবর্তীকালে গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে, যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।


Comments

Post a Comment