দেশে হাম ও রুবেলা আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের কিছু এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। এমনকি যেসব শিশু আগে টিকা নিয়েছে, তারাও এই কর্মসূচির অধীনে পুনরায় টিকা গ্রহণ করবে।
পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন ও লক্ষ্যমাত্রা
টিকাদান কার্যক্রমটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তীতে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আগামী ২১ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ব্যবহৃত টিকাগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর, তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও জানান:
- যেসব শিশু বর্তমানে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছে, তারা সুস্থ হওয়ার পর টিকা নেবে।
- হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যম ও স্থানীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা কামনা করেন এবং গুজব এড়িয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
