![]() |
| ইরান |
নাটকীয় শেষ মুহূর্ত এবং সমঝোতা
হামলার জন্য ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা (রাত ৮টা) শেষ হওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই ঘোষণা আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে এবং ইরান অবিলম্বে ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশ্রুতি
ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি সাময়িক চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলা বন্ধ থাকলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। এছাড়া আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের নৌযান নিরাপদ যাতায়াত করতে পারবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। আরাগচিও এই সংকটে মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান।
জ্বালানি বাজারের ওপর প্রভাব
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ইসরায়েল ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া অনেকাংশেই নির্ভর করছে ইসরায়েলের অবস্থানের ওপর। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সির মতে, আমেরিকানদের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে একা ইরানের মোকাবিলা করা কঠিন, তাই তারা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের অবাধ্য হওয়ার ঝুঁকি সম্ভবত নেবে না। তবে হিজবুল্লাহ বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচকভাবে চললে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসলামাবাদে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

Comments
Post a Comment